শুল্ক আরোপ: যেসব পণ্যের দাম বাড়বে

0
41

বার্তা প্রতিবেদক: আমদানি প্রবণতা কমাতে ও দেশীয় পণ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিদেশি ফুল ও ফল, ফার্নিচার এবং কসমেটিকস আইটেমের দুই শতাধিক পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ মূলক শুল্ক (আরডি) আরোপ বা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মে) এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনিমের সই করা প্রজ্ঞাপনে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক শূন্য বা ৩ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত আরোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকালে ২০২১ সালের একটি প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পরে দুপুরে ওই প্রজ্ঞাপনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

সেখানে বলা হয়, ১৩৫ ধরনের পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক শূন্য বা ৩ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এনবিআর জানিয়েছে, করোনা পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিলাসবহুল পণ্যের ওপরে নির্ভরশীলতা ও আমদানি হ্রাসকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিদেশি ফল, বিদেশি ফুল, ফার্নিচার ও কসমেটিকস জাতীয় প্রায় ১৩৫টি পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে শূন্য ও ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৪ মে) এনবিআর পরিচালক (জনসংযোগ) সৈয়দ এ মু’মেন বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিলাসবহুল পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা ও আমদানি হ্রাসকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিদেশি ফল, বিদেশি ফুল, ফার্নিচার ও কসমেটিকস জাতীয় প্রায় ১৩৫টি এইচএস কোডভুক্ত পণ্যের ওপর আমদানি পর্যায়ে বিদ্যমান ০ ও ৩ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যা ২৩ মে থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুল ও ফল চাষে যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী। এ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে দেশীয় ফুল ও ফল চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবে এবং ফুল ও ফল চাষে উৎসাহিত হবে। এতে দেশের প্রান্তিক চাষিরা লাভবান হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমবে। অন্যদিকে বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ফার্নিচার ও কসমেটিকস যথেষ্ট মানসম্পন্ন এবং দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ফার্নিচার ও কসমেটিকসে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের ফলে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশীয় শিল্প বিকশিত হবে। এছাড়া এ ধরনের পণ্যের অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং সরকারের রাজস্ব আহরণে তা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

যেসব পণ্য আমদানিতে খরচ বাড়বে

শুকনা ও তাজা কিংবা হিমায়িত আপেল, নাসপাতি, আঙুর, কলা, আনারস, পেয়ারা, আম, তরমুজ, পেঁপে, বাদাম, কমলালেবু ও লেবুজাতীয় ফল, আলুবোখারা ইত্যাদি। এছাড়া প্রসাধন সামগ্রীর মধ্যে আছে সুগন্ধি (পারফিউম), সৌন্দর্য বর্ধনের নানা উপাদান (যেমন সানস্ক্রিন, সান টান ইত্যাদি), হাত-পায়ের নখ কাটার প্রসাধনী, চুলের যত্ন নেওয়ার প্রসাধনী, দাঁতের যত্ন নেওয়ার পেস্ট ও পাউডার এবং সেভ করার প্রসাধনী। অপরদিকে বেড রুম, রান্নাঘর ও অফিসের জন্য লোহা, কাঠ বা প্লাস্টিকের যেকোনও ধরনের আসবাব আমদানিতেও এখন থেকে বাড়তি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক দিতে হবে। এছাড়া যেকোনও তাজা ফুল ও ফুলের গাছ আমদানিতেও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বাড়তি নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসলো।

এনবিআর বলছে, বর্তমানে দেশে উৎপাদিত আসবাব ও প্রসাধনসামগ্রী যথেষ্ট মানসম্মত এবং দেশের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বাংলাদেশ এখন ফল ও ফুল চাষেও যথেষ্ট সমৃদ্ধিশালী। এসব পণ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানোর ফলে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশি শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

ওএস/আরপি