সয়াবিন তেলের দামে রেকর্ড, লিটারে বাড়ল ১২ টাকা

0
101

বার্তা প্রতিবেদক: দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড গড়েছে সয়াবিন তেল। প্রতিলিটার সয়াবিন তেলের দাম এক সঙ্গে ১২ টাকা বেড়েছে। এই দর বৃদ্ধির ফলে এখন প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে ১৫৩ টাকা গুনতে হবে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনষ্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১২৯ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকা, পাম সুপার তেল ১১২ টাকা এবং ৫ লিটার সয়াবিন তেলের বোতল ৭২৮ টাকায় বিক্রি হবে।

এর আগে রোজার মধ্যে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ১৪৪ টাকা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

তবে মে মাসের শুরুতে আগের চেয়ে লিটারে দুই টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিনের দাম সর্বোচ্চ ১৪১ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তা মেনেও নিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা।

এ হিসাবে প্রতিলিটার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে ১২ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে একবারে এতটা দাম বাড়ানোর নজির নেই।

চলিত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। অচিরেই একটি সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন বাণিজ্য সচিব।

এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হল উৎপাদক ও পরিশোধনকারী উদ্যোক্তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে।

তাদের বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর একমাত্র কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবার পাম তেলের দাম কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এর দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বোতলজাত সয়াবিন খুচরায় ১৩৫ টাকা দাম নির্ধারণের পর ১৫ মার্চ আরেক দফায় চার টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল।

এর বাইরেও ধাপে ধাপে খোলা বাজারে তেলের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা বলে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানান। মাঝে এপ্রিল মাসে একবার এবং মে মাসে আরেক দফায় বেড়েছিল ভোজ্যতেলের দাম।

দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রমজান মাসে ভোজ্যতেলের দাম সহনীয় রাখতে গত ১০ এপ্রিল সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ৪ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করে এনবিআর।

বর্তমানে বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অনেক কম দাবি করে ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও টিকে গ্রুপের পরিচালক মোস্তফা হায়দার বলেন, দাম না বাড়ালে ব্যবসায়ীরা নতুন করে এলসি খুলতে পারবেন না। ফলে সামনে কোরবানির ঈদে একটা সঙ্কট দেখা দিতে পারে। পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো জানান, ঈদের পর থেকেই ভোজ্যতেলের দাম ওঠানামা করছে। আগামী দুই মাসে এই পরিস্থিতি চলমান থাকবে বলে তাদের ধারণা।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার এখন ঊর্ধমুখী। সেপ্টেম্বরের দিকে আমেরিকার বাজারে নতুন মৌসুমের সয়াবিন তেল আসবে। জুলাইয়ের দিকে মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলে পাম তেলের নতুন পণ্য আসবে। এই দুটি বাজারই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভোজ্যতেলের দাম কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগের দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। জুন, ২০২০ এর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভোজ্যতেলের মোট চাহিদার ৯৫ ভাগেরও বেশি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারে যেই পরিমাণে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে স্থানীয় বাজারে সেই পরিমাণে মূল্য বৃদ্ধি পায়নি,” বলা হয় মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বিগত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রায় ১৬০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে দেশের বাজারে দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। সেই হিসেবে এর আগে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোকে যৌক্তিক মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এক বছর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম ছিল প্রতিকেজি ৫২ টাকা ১১ পয়সা; বর্তমানে সেই দাম ১৩৫ টাকা ৮৪ পয়সা। আর দেশি বাজারে সর্বশেষ মূল্য ১৩০ টাকা। এক বছর আগে দেশে ভোজ্য তেলের দাম ছিল ৮৮ থেকে ৯৩ টাকা।

ওএস/আরপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here