রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে না নতুন বাজেটে

0
81

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবছর জাতীয় বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও এবার বাড়ছে না। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের করোনার কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়াচ্ছে না সরকার।ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কর্পোরেট কর কমানোর চাপ, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ের দিক বিবেচনায় এই খাতে নতুন করে ঝুঁকি নিতে যাচ্ছে না সরকারের নীতিনির্ধারকরা। ফলে বর্তমানে প্রযোজ্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২৫ শতাংশ ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির কর হার ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশই থেকে যাচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারির প্রথম বছরে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কর্পোরেট কর কিছুটা কমানো হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার ওই বাজেট প্রস্তাবনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির কর হার ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির কর হার ৩৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়। তবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার আগের মতোই ২৫ শতাংশ রাখা হয়। আসন্ন অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থেকে যাচ্ছে। বিদায়ী অর্থবছরে দেয়া তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে বাড়তে পারে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা। চলতি অর্থবছরে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে তিন লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। আগামী বাজেটে তা বাড়িয়ে প্রায় তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ববলছেন, চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। তবে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-মার্চ) আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে রাজস্ব আদায়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও ঘাটতি বেড়েই চলেছে। সাময়িক হিসাবে ইতিমধ্যে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় সাড়ে ৬৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের ২৯ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। এতে রাজস্ব ঘাটতি অনেকটা কমেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসছে বাজেটে কোনো নতুন শুল্ক-কর আরোপ না করে করের জাল আরও প্রশস্ত করতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আদায় করতে হবে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটে। এ থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়। এছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়। আর চলতি বছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা মহামারির এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআর তথা সরকারের সবার আগে জোর দেয়া উচিত কর ফাঁকি বন্ধের ওপর। করের আওতা বাড়ানো এবং সব টিআইএনধারীদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য করা উচিত। তাহলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘাটতি বাজেটের অর্থ-সংস্থান। সেক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎসগুলোই প্রধান ভরসা হবে সরকারের।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩ জুন জাতীয় সংসদে আসন্ন ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যের প্রতিপাদ্য হতে পারে ‘জীবন ও জীবিকার প্রাধান্য, আগামীর বাংলাদেশ’। বাজেটের ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে মেটানো হবে। আর ব্যয়ের বড় অংশ থাকবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়নে।

ওএস/এসপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here