বজ্রপাতে ৬ জেলায় গেল ১৭ প্রাণ

0
76

নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নেত্রকোনায় আটজন, ফরিদপুরে চারজন, মানিকগঞ্জে দু’জন এবং ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে প্রাণ হারিয়েছেন একজন করে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩ জন।

প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, মদন, পূর্বধলা ও কেন্দুয়ায় বজ্রপাতে মারা গেছেন আটজন। আহত হয়েছেন ৯ জন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন উপজেলায় মঙ্গলবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। কেন্দুয়া উপজেলায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক ফজলু মিয়া ও বাচ্চু খান নিহত হন।

মদন উপজেলায় নিহত হন পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে হাফেজ মোহাম্মদ শরীফ (১৮), মৃত আবদুল মন্নাফের ছেলে মাওলানা আতাবুর রহমান (২১), মাঘান ইউনিয়নের ঘাটুয়া গ্রামের মঞ্জিল হকের ছেলে মনির হোসেন (২৭)।

বজ্রপাতে পশ্চিম ফতেপুর গ্রামের রবিন মিয়া, রুমান মিয়া, তিয়শ্রী ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের ভিক্ষু মিয়ার স্ত্রী কণা আক্তার ও চন্দন মিয়ার স্ত্রী সুরমা আক্তার আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে ভর্তি করা হয়েছে।

খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের খেলু ফকিরের ছেলে কৃষক অছেক মিয়া (৩২), আমির সরকারের ছেলে কৃষক বিপুল মিয়া (২৮) বজ্রপাতে নিহত হন। তারা ওই এলাকার বরবরিয়া হাওরে কাজ করছিলেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। একই সময়ে পূর্বধলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের পাটুরী গ্রামের ইসহাক ফকিরের ছেলে জুনায়েদ (১১) বজ্রপাতে মারা যায়।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান জানান, নিহত প্রত্যেকের ১৫ হাজার এবং আহত প্রত্যেককে তিন হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ফরিদপুরে বজ্রপাতে নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে ফরিদপুর পৌরসভার পশ্চিম গঙ্গাবর্দী, মোল্লাডাঙ্গী মহল্লা এবং নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন ও মধুখালীতে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

মোল্লাডাঙ্গী মহল্লায় নিহতের নাম আনোয়ারা বেগম (৪৫)। তিনি স্বামী ও ছেলের সঙ্গে মাঠ থেকে ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের কৃষক কাবুল শেখের স্ত্রী। পশ্চিম গঙ্গাবর্দী এলাকায় মাঠ থেকে ধান নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় কৃষক কবির মোল্লার (৪৮)। এ ছাড়া সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নে দুলাল খান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মধুখালী উপজেলার চাঁদপুরে মারা গেছেন কবির শেখ (৪০) নামে এক কৃষক। ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ওসি এমএ জলিল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় মঙ্গলবার দুপুরে বজ্রপাতে আতিকুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। সে উপজেলার খালিশাজাহান গ্রামের আমজত আলীর ছেলে। বৃষ্টির মধ্যে বন্ধুদের নিয়ে বাড়ির পাশে ফুটবল খেলতে নেমেছিল আতিকুল। বজ্রপাতে আহত হয়েছেন কবির নামে আরেক যুবক।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বাড়ির উঠানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কহিনুর বেগম (৩৬) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী টান পলাশতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের লতিফ মিয়ার স্ত্রী। মঙ্গলবার আজগানা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলেয়া ভূইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

মানিকগঞ্জে মঙ্গলবার বিকেলে বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তিনজন। নিহতরা হলেন ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া গ্রামের কৃষি শ্রমিক আজমত আলী (৫০) এবং সদর উপজেলা গিলন্ড গ্রামের শিক্ষার্থী আসিফ মোল্লা (১৬)।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, আজমত আলী মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় পৌলি গ্রামে আব্দুল হকের বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। বিকেলে ক্ষেত থেকে ধান নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান। আর শিশু আসিফ মাঠে ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়। আহত হয় তার দুই বন্ধু আবদুল্লাহ ও অনিক। তাদের মধ্যে অনিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় সোমবার বিকেলে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে হালিমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার নাড়া তেঘরী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী।

ওএস/আরপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here