খেলাপি ঋণ এক লাখ ২৬ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

0
37

বার্তা প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ২৬ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। এর বাইরে উচ্চ আদালতের নির্দেশের (স্থগিতাদেশ) কারণে ২১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা আদায় করা যাচ্ছে না। বুধবার জাতীয় সংসদ প্রশ্নোত্তর পর্বে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সিআইবি ডাটাবেজে দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ২৬ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। এছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশ বহাল আছে এমন ঋণস্থিতির পরিমান ২১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। যা বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আদায় করতে পারছে না।

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার খেলাপি গ্রাহক চিহ্নিত এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এক ব্যাংকের খেলাপি অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারছে না। ব্যাংকগুলোকে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধন করে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।

জামালপুর-১ আসনের সদস্য আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলদেশ থেকে অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। অর্থপাচারের পরিমাণ নির্ধারণ অত্যন্ত দুরূহ বিষয়।

একই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার বিষয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, গবেষণা সংস্থা বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে প্রাক্কলন করে থাকে। যার যথাযথতা ওই সকল প্রতিষ্ঠানও দাবি করে না। উক্ত সংস্থাসমূহের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থপাচার হয় সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পরিলক্ষিত হয়। তবে দেশ থেকে অর্থপাচারের মাত্রা বা পরিমাণ যাই হোক না কেন, পাচারের সম্ভাব্য উৎসগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি অর্থপাচার রোধ এবং পাচারকৃত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষে সরকারের সকল সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে সচেষ্ট ও তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে পাচারকৃত ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার ফেরত আনা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রুমানা আলীর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলংকার মতো দেউলিয়া হয়ে যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ও মজবুত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে আছে। আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমূহ অনেক শক্তিশালী।

মন্ত্রী জানান, শ্রীলংকার বেশিরভাগ বৈদেশিক ঋণ বাণিজ্যিক ও সার্বভৌম বন্ডে নেওয়া, যেগুলোর সুদহার বেশি ও পাঁচ বছরে সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধকাল অনেক বেশি এবং স্বল্প সুদে নেওয়া। বাংলাদেশ সরকারের কোনো সভরেন বন্ড নেই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান ঋণ পরিস্থিতি সহনশীল ও টেকসই মাত্রায় রয়েছে এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে শ্রীলংকার মতো বড় কোন ঝুঁকির আশংকা নেই।

ওএস/আরপি