আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

0
77

বার্তা ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ৭২ বছর ধরে গণমানুষের পাশে রয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে আজ বুধবার ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করছে দলটি।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে আওয়ামী লীগ নাম নিয়ে দলটি আরো বিকশিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জনগণের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে আসা আওয়ামী লীগ আগামী দিনেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয় দলের শীর্ষনেতাদের।

আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল ধারা। আওয়ামী লীগ মানেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। উপমহাদেশের রাজনীতিতে গত ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের অপরিহার্যতা প্রমাণ করেছে দলটি। এদেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রত্যুজ্জ্বল।

৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর যুগান্তকারী নির্বাচন আর ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা আন্দোলন, সবখানেই সরব উপস্থিতি ছিল আওয়ামী লীগের।

আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কে এম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক। তখন কারাবন্দি অবস্থায় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৫ সালে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলেও তাকেই সভাপতি পদে বহাল রাখা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এই দলটি যথেষ্ট অভিজ্ঞ এবং পোড়খাওয়া। মহামারির মাঝে তারা ক্যাম্পেইন করতে পারে। এটা হতে হবে সাধারণ মানুষের জন্য।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দেয় আওয়ামী লীগ। ‘বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ’র ইতিহাসে এই তিনটি নাম একই সূত্রে গাঁথা। দেশের উন্নায়ন ও মানুষের কষ্ট লাঘবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগকে ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে মোকাবিলা করতে হচ্ছে বৈশ্বিক প্রাণঘাতী করোনা চ্যালেঞ্জ। মহামারীর এই দুঃসময়ে জনগণের পাশে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য জনসম্পৃক্ততা এই মুহূর্তে দলটির মূল লক্ষ্য। বিশ্বব্যাপী কোভিডবিরোধী যুদ্ধে জনগণকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের আহ্বানও জানান তিনি।

প্রতিবার বড় পরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন থাকলেও গত বছরের মতো এবারো করোনা পরিস্থিতির কারণে খোলা মাঠে বা বাইরে তেমন কোনো আয়োজন থাকছে না। ডিজিটাল মাধ্যমে চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকছে নানা আয়োজন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-আজ সূর্যোদয়ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৯টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকাল ৩টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আলোচনা সভা। সভায় গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে দিবসটি পালনের আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মহামারি করোনার কারণে যথাযথভাবে ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করতে পারছি না। তবে ঘরোয়াভাবে সীমিত আকারে অনুষ্ঠান কাটছাঁট করতে হয়েছে।

ওএস/আরপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here